স্টাফ রিপোর্টার, অনুসন্ধানবার্তা:
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চান্দিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমরুল কায়েস খান ও বিশ্বহরিগাছা বহালগাছা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদুল বারী খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, হাসান উল্লাহ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শিক্ষক এমরুল কায়েস খান ও রাশেদুল বারী খানের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি ও মাদক সেবন’ সংক্রান্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হয়। যদিও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাদের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শী বহালগাছা গ্রামের তারেকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক এমরুল কায়েস খান ধুনট উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার হাতে গড়া শত শত শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। তার মতো একজন সুনামধন্য শিক্ষকের নামে এমন মানহানিকর অপপ্রচার এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি।
তিনি আরো জানান, উক্ত ভুয়া পোস্টটি রকিবুল হাসান শেখ রকেট নামের একজন শেয়ার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে বিশ্বহরিগাছা বাজারে রকিবুল হাসান শেখের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় দোকানদার রকিবুল হাসান শেখ প্রধান শিক্ষক এমরুল কায়েস খানকে ঘুষি মারেন। পরে পাল্টা ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক দুলাল, আব্দুল করিম মণ্ডল, তারিকুল ইসলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে রকিবুল হাসান শেখ দোকান থেকে রট বের করে হামলা চালালে উপস্থিত লোকজন তা ছিনিয়ে নেন। ধস্তাধস্তির সময় রকিবুল হাসান পড়ে গিয়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পান।
পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহত রকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।